বাবা আমার বাবা
বাবা আমার বাবা — কবিতা
বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬
কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)
ভূমিকা
পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের নাম — বাবা। সেই বাবা যখন চলে যান, তখন সন্তানের বুকের ভেতরে এক অপূরণীয় শূন্যতা বাসা বাঁধে। আজ বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬ — এই দিনে পৃথিবীর কোটি কোটি সন্তান তাদের বাবাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরছে, শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে দিচ্ছে। কিন্তু যাদের বাবা আর এই পৃথিবীতে নেই — তাদের এই দিনটি আনন্দের নয়, বরং গভীর বেদনার, নীরব অশ্রুর, আর অন্তরজ্বলা কষ্টের।
"বাবা আমার বাবা" কবিতাটি সেই সকল এতিম সন্তানের হৃদয়ের কথা বলে — যারা বাবাকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে একা লড়ছে, যাদের বুকে শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না, যাদের সন্তানেরা যখন "দাদু কই?" জিজ্ঞেস করে — তখন উত্তর দেওয়ার বদলে শুধু চোখ ভিজে ওঠে। এই কবিতায় একজন সন্তানের অতল ভালোবাসা, অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে বাবা-মায়ের জান্নাতের জন্য আকুল প্রার্থনা — সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়েছে।
আমি — হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া — আমার প্রিয় বাবার স্মৃতিতে, তাঁর প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় এই কবিতাটি রচনা করেছিলাম। আজ বিশ্ব বাবা দিবসে কবিতাটি আবারও উৎসর্গ করছি আমার বাবাকে — এবং পৃথিবীর সকল বাবাকে।
কবিতার প্রেক্ষাপট
"বাবা আমার বাবা" কবিতাটি আমি ২০ জুন ২০২১ সালে রচনা করি। সেদিনও ছিলো বিশ্ব বাবা দিবস। বাবাকে হারানোর পর প্রতিটি বাবা দিবস আমার কাছে একটি নীরব কান্নার দিন হয়ে আসে। চারপাশে যখন সবাই বাবাকে নিয়ে উৎসব করে, ছবি শেয়ার করে, শুভেচ্ছা জানায় — তখন আমি একা বসে ভাবি, আমার বাবা কোথায়? কেমন আছেন তিনি খোদার দেশে?
এই কবিতাটি কোনো সাহিত্যিক আয়োজন নয়। এটি একজন সন্তানের কাঁচা আবেগ, অশ্রুসিক্ত হৃদয়ের সরাসরি প্রকাশ। বাবাকে আমি বলেছি "মন মদিনা" — কারণ বাবা ছিলেন আমার হৃদয়ের সবচেয়ে পবিত্র জায়গা। মাকে বলেছি "দিল ক্বাবা" — কারণ মায়ের ভালোবাসা ছিলো আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, যেমন ক্বাবা মুসলিম উম্মাহর কেন্দ্রবিন্দু।
বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে যখন "ভবো মাঝে এতিম" হলাম — তখন বুঝলাম, পৃথিবীর কোনো সম্পদ, কোনো সম্পর্ক, কোনো সান্ত্বনা সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। নিজের কন্যার মধ্যে মাকে খুঁজি, পুত্রের মধ্যে বাবাকে — কিন্তু পাই না। আর যখন আমার সন্তানেরা জিজ্ঞেস করে "দাদুরা কই?" — সেই মুহূর্তটি বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধে যায়।
এই কবিতা শুধু আমার একার কবিতা নয়। এটি পৃথিবীর প্রতিটি এতিম সন্তানের কবিতা, প্রতিটি বাবা-হারা হৃদয়ের নীরব আর্তনাদ। বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬-এ এই কবিতাটি তাদের সকলের প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কবিতার সারসংক্ষেপ
"বাবা আমার বাবা" কবিতায় মোট ছয়টি স্তবক রয়েছে। প্রতিটি স্তবক একটি গভীর আবেগের স্তর উন্মোচন করে:
প্রথম স্তবক — কবি বাবাকে জিজ্ঞেস করছেন, "কেমন আছো?" — এই সরল প্রশ্নটি আসলে সরল নয়। কারণ উত্তর পাওয়ার কোনো উপায় নেই। মন চাইলেও দেখা পাওয়া যায় না, কষ্টে বুক ভরে যায়।
দ্বিতীয় স্তবক — কবি বিশ্বাস করেন বাবা খোদার দেশে সুখে আছেন। কিন্তু কবি নিজে এই জীবনযুদ্ধে "অন্তরজ্বলা দুঃখে" বেঁচে আছেন।
তৃতীয় স্তবক — বাবার মতো আপন কেউ নেই এই জগতে — এই উপলব্ধি প্রকাশ পেয়েছে। শূন্যতা পূরণ হয় না, বুকে কাঁপন জাগে।
চতুর্থ স্তবক — কবিতার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ। বাবাকে "মন মদিনা" ও মাকে "দিল ক্বাবা" রূপকে তুলনা করা হয়েছে। দুজনকেই হারিয়ে কবি "ভবো মাঝে এতিম"।
পঞ্চম স্তবক — পরবর্তী প্রজন্মের প্রসঙ্গ এসেছে। কন্যার মধ্যে মাকে খোঁজেন, পুত্রের মধ্যে বাবাকে। সন্তানদের "দাদুরা কই?" প্রশ্নে চোখে অশ্রু আসে।
ষষ্ঠ স্তবক — কবি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছেন — বাবা-মাকে যেন স্বর্গে (জান্নাতে) রাখেন। এটি "বিধির প্রতি দাবি"। আর বাবাকে বলেছেন "মূল নাভি" — অর্থাৎ বাবাই জীবনের মূল, উৎস, ভিত্তি।
সামগ্রিকভাবে, "বাবা আমার বাবা" কবিতাটি বাবা দিবসের চিরায়ত একটি বাংলা কবিতা হিসেবে প্রতিটি বাবা-হারা সন্তানের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো একটি রচনা।
মূল কবিতা
বাবা আমার বাবা
কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
(Hossain Mohammed Murad Meah)
বাবা তুমি কেমন আছো
জানতে ইচ্ছে করে,
মনটা চাইলেও পাই না দেখা
কষ্টে বুকটা ভরে।
খোদার দেশে থাকো বাবা
জানি আছো সুখে,
জীবন যুদ্ধে বেঁচে আছি
অন্তরজ্বলা দুঃখে।
এই জগতে তোমার মতো
নেই তো কোনো আপন,
শূণ্যতা আর হয় না পূরণ
বুকে জাগে কাঁপন।
তুমি ছিলে মন মদিনায়
মা ছিলো দিল ক্বাবা,
ভবো মাঝে এতিম হলাম
সব হারালাম বাবা।
কন্যার মাঝে মাকে খুঁজি
পুত্রে পাই না তোমায়,
দাদুরা কই জিজ্ঞাসিলে
অশ্রু কাঁদায় আমায়।
বাবা-মাকে স্বর্গে রেখো
বিধির প্রতি দাবি,
এতিমের হাত কবুল করো
বাবা যে মূল নাভি।
তারিখঃ ২০.০৬.২০২১ ইং
পুনঃপ্রকাশঃ বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬
শেষ কথা
আজ বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬। পৃথিবীর যেসব সন্তানের বাবা বেঁচে আছেন — তাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ: বাবাকে জড়িয়ে ধরুন, তাঁর পায়ে হাত রাখুন, তাঁকে বলুন — "বাবা, তুমি আমার সবকিছু।" কারণ একদিন এই সুযোগ থাকবে না। আর যেদিন থাকবে না — সেদিন বুঝবেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কষ্ট কাকে বলে।
আর যাদের বাবা এই পৃথিবীতে নেই — তাদের বলি, কাঁদুন। লজ্জা পাবেন না। বাবার জন্য কান্না দুর্বলতা নয় — এটি ভালোবাসার সবচেয়ে খাঁটি প্রমাণ। বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করুন, তাঁদের রূহের মাগফেরাত কামনা করুন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করুন — "বাবা-মাকে স্বর্গে রেখো, বিধির প্রতি দাবি।"
"বাবা আমার বাবা" — এই কবিতাটি আমার ব্যক্তিগত বেদনার প্রকাশ হলেও, আমি জানি — এটি লক্ষ লক্ষ এতিম সন্তানের কবিতা। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পঙ্ক্তি — কোনো না কোনো সন্তানের বুকের ভেতরের অব্যক্ত কথা। আমি শুধু কলম দিয়ে সেই কথাগুলো লিখেছি।
বাবা, তুমি যেখানেই থাকো — জেনে রেখো, তোমার সন্তান তোমাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভোলেনি। ভুলবেও না কোনোদিন। তুমি আমার "মূল নাভি" — তুমিই আমার শিকড়, তুমিই আমার পরিচয়।
সকল বাবা ও মায়ের রূহের মাগফেরাত কামনা করি। আমীন।
বিশ্ব বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই সকলকে।
FAQ — সচরাচর জিজ্ঞাসা
❓ প্রশ্ন ১: "বাবা আমার বাবা" কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: "বাবা আমার বাবা" কবিতাটি লিখেছেন কবি ও লেখক হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)। তিনি "মুরাদের কলম" ব্লগের লেখক ও পরিচালক।
❓ প্রশ্ন ২: কবিতাটি কবে রচিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি ২০ জুন ২০২১ সালে বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে রচিত হয়েছে।
❓ প্রশ্ন ৩: বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬ কবে?
উত্তর: বিশ্ব বাবা দিবস বা Father's Day প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয়। ২০২৬ সালে এটি ২১ জুন রোববার।
❓ প্রশ্ন ৪: "মন মদিনা" ও "দিল ক্বাবা" বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি বাবাকে "মন মদিনা" বলেছেন — অর্থাৎ বাবা ছিলেন তাঁর মনের সবচেয়ে পবিত্র ও প্রিয় স্থান, যেমন মদিনা মুসলমানদের কাছে হৃদয়ের শহর। আর মাকে "দিল ক্বাবা" বলেছেন — অর্থাৎ মা ছিলেন তাঁর হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু, যেমন ক্বাবা শরীফ ইসলামের কেন্দ্রবিন্দু। এটি কবির অনন্য ও মৌলিক রূপক ব্যবহার।
❓ প্রশ্ন ৫: কবিতাটি কি কপি করা যাবে?
উত্তর: না। এই কবিতাটি কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার মৌলিক সাহিত্যকর্ম এবং সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া কপি, পুনঃপ্রকাশ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শেয়ার করতে চাইলে মূল ব্লগ লিংকসহ কবির নাম উল্লেখ করে শেয়ার করুন।
❓ প্রশ্ন ৬: "মুরাদের কলম" ব্লগে আর কী ধরনের লেখা পাওয়া যায়?
উত্তর: "মুরাদের কলম" (www.muraderkolom.com) ব্লগে কবিতা, প্রবন্ধ, ইসলামিক লেখা, জীবনমুখী রচনা, সামাজিক সচেতনতামূলক লেখাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌলিক বাংলা সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়।
✍️ লেখক পরিচিতি (About the Author)
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
(Hossain Mohammed Murad Meah)
কবি, লেখক, ব্লগার এবং "মুরাদের কলম" ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। তিনি বাংলা ভাষায় কবিতা, প্রবন্ধ, ইসলামিক সাহিত্য, জীবনমুখী রচনা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, গভীর আবেগ, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধের সুন্দর সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। তাঁর কলম সর্বদা সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে সোচ্চার।
🌐 ব্লগ: www.muraderkolom.com
📘 ফেসবুক পেজ: মুরাদের কলম
✒️ কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
(Hossain Mohammed Murad Meah)
📝 "মুরাদের কলম — যেখানে হৃদয় কথা বলে"
🌐 Blog: www.muraderkolom.com
📘 Facebook: মুরাদের কলম
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া | মুরাদের কলম
অনুমতি ব্যতীত কপি, পুনঃপ্রকাশ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
