কেউ ছিলো না | হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
সময়ের আবর্তে কিছু স্মৃতি ধূসর হয়ে যায়, আর কিছু স্মৃতি হয়ে ওঠে দহনকাল। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার "কেউ ছিলো না" কবিতাটি তেমনই এক নিঃসঙ্গতার দলিল। জীবনের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া অনুভূতি এবং সম্পর্কের অবশিষ্টাংশ যখন কেবল 'অনুশীলন' হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হাহাকার ফুটে উঠেছে এই চরণে চরণে।
কেউ ছিলো না
--হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
বারান্দায়
একটা নীরবতা বসে আছে--
চা ঠান্ডা হওয়ার মতো
ধীরে, নির্বিকার।
ধুলো জমে
আমাদের কথোপকথনের ওপর,
যেন কেউ প্রতিদিন
ভুলে যাওয়ার আয়োজন করছে।
শাঁখের শব্দ
আজ আর ডাকে না--
সে শুধু দেয়ালে ঝুলে থাকা
একটা মৃত চক্র।
সিঁথিতে সিঁদুর
নয়,
এখন শুধু একরাশ লাল ধুলো,
যা সময়ের কপালে
লাগিয়ে রাখা হয়েছে।
রান্নাঘরে
পানি ফুটে
বাষ্প হয়ে যায়--
কেউ আর জিজ্ঞেস করে না
কার জন্য।
বিয়ের কার্ড
ড্রয়ারে ঘুমায়,
তারিখ মুছে গেছে
নামের নিচে শুধু
“কেউ নেই”।
আংটি ঘোরে
এক আঙুল থেকে আরেক আঙুলে,
কিন্তু কোনো স্পর্শে
থাকে না।
স্মৃতি আর রীতির মাঝখানে
এক নারী দাঁড়িয়ে,
তার মুখে প্রার্থনা নেই,
শুধু অনুশীলন।
ভালোবাসা
কবরে রাখা হয়নি--
তাকে প্রতিদিন
ধূপহীন দাহ করা হয়,
গন্ধহীন আগুনে।
শেষে থাকে
একটা শূন্য জলভরা গ্লাস,
যার তলায় লেখা--
কিছুই ছিলো না,
কেউই ছিলো না।
কবিতার প্রেক্ষাপট ও সারসংক্ষেপ:
"কেউ ছিলো না" কবিতাটি মূলত বিচ্ছেদ পরবর্তী এক শূন্যতার চিত্রায়ন। এখানে কবি ঘরোয়া অনুষঙ্গ—যেমন ঠান্ডা চা, রান্নাঘরের ফুটন্ত জল বা ড্রয়ারে পড়ে থাকা বিয়ের কার্ডের মাধ্যমে এক গভীর একাকীত্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধন যখন ভেঙে যায় বা অর্থহীন হয়ে পড়ে, তখন সিঁথির সিঁদুর কেবল 'লাল ধুলো' হয়ে ধরা দেয়। কবিতার শেষে 'শূণ্য জলভরা গ্লাস' জীবনদর্শনের এক রূঢ় সত্যকে তুলে ধরে—যেখানে প্রাপ্তি বলতে শেষ পর্যন্ত কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এটি কেবল বিরহের কবিতা নয়, বরং অস্তিত্বহীনতার এক করুণ আখ্যান।
February 16, 2026
© Hossain Mohammed Murad Meah
All Rights Reserved.
Follow my facebook page:
https://www.facebook.com/share/14YQTtgFsJX/
#কেউ_ছিলো_না
#হোসাইন_মুহাম্মদ_মুরাদ_মিয়া
#HossainMohammedMuradMeah
#bengali_poem #BengaliPoetry #বাংলা_কবিতা
