Murader Kolom | Hossain Mohammed Murad Meah

মহাবৈশ্বিক মহাবিপ্লব

 

mohaboissik- mohabiplob-murader-kolom



সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের অন্তরে জমে থাকা বিদ্রোহ যখন শব্দে রূপ নেয়, তখন সৃষ্টি হয় এক মহাবৈশ্বিক মহাবিপ্লব। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার এই কবিতাটি কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এটি শৃঙ্খলিত প্রাণের মুক্তিপিপাসা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অজেয় হুঙ্কার। নিজের অস্তিত্বকে চিনে নেওয়ার এবং মহাকালের বুকে নিজের নাম খোদাই করার এক অনন্য প্রয়াস ফুটে উঠেছে এই চরণে।

​প্রেক্ষাপট:

সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতার জীর্ণতা, শোষণ এবং কৃত্রিম মায়াজাল যখন মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে বন্দি করে ফেলে, তখন আত্মার গহিন থেকে যে বিদ্রোহের শিখা জ্বলে ওঠে-- সেই পটভূমিতেই কবিতাটি রচিত। এটি মানুষের ভেতরের সেই 'অবিনাশী চিৎকার' যা কোনো সীমানা বা ভয় মানে না। কবিতাটি পড়ে আসা যাক-

মহাবৈশ্বিক মহাবিপ্লব

-- হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

​আমি অনাদ্যন্তর গর্ভজাত এক অবিনাশী চিৎকার,
সময়ের ঐ ললাট ফলকে রক্তিম এক অঙ্গীকার।
মানি না সীমানা কোনো— আমি অবাধ্য অতি দুর্মর,
শৃঙ্খল চূর্ণ করি এনেছি মহাজাগরণ ভাস্বর।
মহাকাশ চিরে উল্কা হয়েছি— সহস্র হাহাকার,
আমিই এনেছি মুক্তি আলোক— চূর্ণ করি অন্ধকার।

​মানি না আমি তো মৃত নক্ষত্র— পাথুরে দেবের ছায়া,
অন্ধকারের হূৎপিণ্ড চিরে জ্যোতির্ময় এই কায়া।
আগ্নেয়গিরির তপ্ত রুধিরে করেছি রক্তস্নান,
ঝঞ্ঝা হয়েছি প্রলয়-পাগল— মহাকাশে মোর গান।
ভেঙেছি প্রাচীর যত বাধা আছে— যত কৃত্রিম মায়া,
মুক্ত প্রাণের দৃপ্ত পরশে— ধন্য এ মোর কায়া।

​শোনো বিধাতা হে বিশ্ব-নিয়ামক— আমি তো দাস নই,
মোর স্পর্ধায় মহাকাশ মাঝে চিরকাল আমি হই।
ভাগ্যের আমি মহান কারিগর— নিজের ধ্বংস গড়ি,
রুদ্র শিখা— অমৃত-বীণা দুই হাতে লয়ে লড়ি।
অতীতের যত জীর্ণতা আছে ভস্মে করেছি লয়,
অবিচারের ঐ প্রাসাদ চূড়া চূর্ণিতে নাই ভয়।

​আমি তো অনাথ শিশুর অশ্রু— বজ্রের হুহুঙ্কার,
বিধাতার গড়া শোষণের বিধি করি আজ ছারখার।
লাঞ্ছিতের ঐ আর্তনাদ আজ আকাশ পাতাল কাঁপায়,
বঞ্চিতদের অন্তিম অস্ত্র— লড়ি জীবনের আশায়।
রক্তচক্ষু ভয় করি নাকো— আমি মুক্ত অজেয়,
লৌহ-কবাট ভাঙাই আমার— চিরকালের সে ধেয়।

​আকাশ যদি বা ভেঙে পড়ে আজ মানুষের অপমানে,
সূর্য আনিব হাতের মুঠোয়— জীবনের সন্ধানে।
পাহাড় যদি বা দম্ভে মাতল— আপনার অভিমানে,
সমুদ্র হয়ে ভাসিয়ে দেব তো— আমি মোর সংজ্ঞানে।
শৃঙ্খলবাহী শান্তিরে ঘেন্না করি প্রাণপণে আমি,
মুক্তির তরে অশান্তি মাঝে বীরের মতন নামি।

​শান্ত হব না যতক্ষণ না এ আঁখি জল মুছে যায়,
যতক্ষণ না শৃঙ্খলগুলো অনল প্রবাহে হারায়।
বিধাতার ঐ করুণা ত্যাজিয়া পৃথিবী জাগিয়া রয়,
একা বিদ্রোহী আমি মানুষের— মহাকালের এই জয়।
মুক্তির টানে চিরকাল আমি স্বাধীন হইব জেনো,
আছি— থাকব— অমর আত্মা, মহাবিপ্লব মেনো।

সারসংক্ষেপ:

কবিতাটিতে কবি নিজেকে এক অবিনাশী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে না থেকে নিজের ধ্বংস ও সৃষ্টি নিজেই করতে চান। এখানে বিধাতার শাসনের চেয়ে মানুষের কর্মক্ষমতা ও আত্মমর্যাদাকে বড় করে দেখা হয়েছে। লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত মানুষের অশ্রুকে বজ্রের শক্তিতে রূপান্তর করে শৃঙ্খল ভেঙে ফেলাই এই মহাবিপ্লবের মূল লক্ষ্য। এটি মূলত একটি অস্তিত্ববাদী ও বিপ্লবী কবিতা যা পাঠককে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করে।

February 17, 2026
© Hossain Mohammed Murad Meah
All Rights Reserved.

Follow my facebook page:
https://www.facebook.com/share/14YQTtgFsJX/

#মহাবৈশ্বিক_মহাবিপ্লব
#হোসাইন_মুহাম্মদ_মুরাদ_মিয়া
#HossainMohammedMuradMeah
#bengali_poem #BengaliPoetry  #বাংলা_কবিতা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url