​বসন্তের গান

 



যখন ঋতুরাজ বসন্ত আসে, প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। শীত শেষ হয়ে যখন সর্বত্র শিমুল-পলাশ উৎসব শুরু হয়, আমাদের অন্তরে শিল্প ও সৌন্দর্যের অনুভূতি জেগে ওঠে। প্রখ্যাত কবি ও লেখক হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার ‘বসন্তের গান’ নামক নতুন ছড়াটি আমাদের সামনে বসন্তকে এক নতুন ও ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে।

বসন্তের গান ছড়া - কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া।


প্রকৃতির পরিবর্তন এবং মানবজীবনের পরিবর্তনের মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। কবি একটি আনন্দময় ছড়া লেখেন যখন তিনি দেখেন যে পাতা ঝরে পড়ার দিন শেষ হয়ে গেছে এবং গাছে নতুন কুঁড়ি ফুটছে। এখানে বসন্ত শুধু একটি ঋতু নয়, বরং ঘৃণা ও সংঘাত ভুলে গিয়ে সত্য ও সুখের পথ বেছে নেওয়ার একটি ইঙ্গিত।

‘বসন্তের গান’ ছড়াটিতে বলা হয়েছে প্রকৃতি কতটা প্রাণবন্ত ও সুন্দর এবং এটি মানুষকে কীভাবে ভালো মূল্যবোধ শেখায়। কবি আমাদের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে মনের খারাপ চিন্তাগুলো দূর করতে বলেছেন। পরিস্থিতি কীভাবে আরও ভালো হতে পারে, তা দেখানোর জন্য তিনি উজ্জ্বল সূর্য, কোকিল পাখির গান এবং প্রফুল্ল ফুলের মতো চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন।

​বসন্তের গান

​হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

​শিমুল ডালে লালচে হাসি
পলাশ বনে রঙ,
বসন্ত আজ দুয়ার খুলে
বাজালো মৃদং।

​শীতের চাদর খুলে ফেলে
সজীব হলো দেশ,
পুরনো সব দুঃখ ভুলে
নতুন হলো বেশ।

​কোকিল ডাকে কুউ-কুউ ওই
বটের ছায়ায় বসি,
মনটা আমার নেচে ওঠে
পেয়ে সোনার রশি।

​ঝরা পাতার দিন গিয়েছে
ফোটার পালা ভাই,
সবুজ পাতায় প্রকৃতি আজ
সাজলো যে তাই তাই।

​শুষ্ক মনে জাগুক তবে
প্রাণের নতুন টান,
রিক্ত জগত পূর্ণ করুক
বসন্তের এই গান।

​ঘৃণা-বিদ্বেষ যাক না ধুয়ে
ভালোবাসার স্রোতে,
নতুন জীবন গড়ব চলো
সত্য আলোর পথে।

​বসন্তের বাতাস যেমন সবকিছুকে সতেজ ও নতুন করে তোলে, তেমনি কবির এই ছড়াটিও আমাদের হৃদয়কে প্রাণবন্ত করে তোলে। বসন্তের বার্তা হলো, আলস্য ও পুরোনো দুশ্চিন্তা পেছনে ফেলে নতুন কিছুর ডাকে সাড়া দেওয়া। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া আশা করেন, তাঁর ছড়া আপনার হৃদয়ে এক নতুন আনন্দ বয়ে আনবে। এর মূল ভাব হলো, দুঃখ ও সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা পেছনে ফেলে এক নতুন জীবনে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা। ছড়াটি লিখেছেন কবি, লেখক ও সাহিত্যিক হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া। এটি মূলত নতুন জীবনের ঋতু বসন্ত এবং সুখী জীবনযাপনের বিষয়ে এটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়, তা নিয়েই রচিত।

​সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

​১. 'বসন্তের গান' ছড়াটির মূল ভাব কী?
​ছড়াটির মূল ভাব হলো প্রকৃতির নতুন রূপের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের মনের সব সংকীর্ণতা ও দুঃখ ভুলে নতুন জীবনের পথে অগ্রসর হওয়া।

২. ছড়াটির লেখক কে?
​এই নান্দনিক ছড়াটির রচয়িতা কবি, লেখক ও ছড়াকার হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া।

৩. ছড়াটি কোন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা?
​এটি মূলত ঋতুরাজ বসন্তের প্রকৃতি এবং জীবনবোধের ওপর ভিত্তি করে লেখা।

​About the Author (লেখক পরিচিতি)

​হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া একজন প্রথিতযশা কবি, লেখক, ছড়াকার ও নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যিক। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন। তাঁর প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ 'মুক্তির কবি' এবং অসংখ্য যৌথ সংকলন পাঠকমহলে সমাদৃত। জীবনমুখী দর্শন এবং প্রকৃতির রূপায়ণ তাঁর লেখনীর প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি তাঁর শক্তিশালী ও মার্জিত শব্দের বুননে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে সচেষ্ট।

লেখায় ও ভাবনায়-
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
কবি, লেখক ও সাহিত্যিক
প্রতিষ্ঠাতা: মুরাদের কলম - Murader Kolom
© ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সাথে থাকতে আমার ফেইসবুক পেইজটি ফলো করুন:
[https://www.facebook.com/share/14YQTtgFsJX]

আরও পড়ুন...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url