শ্রমিক কথন
শ্রমিক কথন
কলমেঃ হোসাইন মুুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
ভূমিকা
সভ্যতার চাকা সচল রাখতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তারা হলেন আমাদের শ্রমজীবী ভাই-বোনেরা। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে তারা সব সময়ই দূরে থাকেন। তরুণ কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া তার লেখনীর মাধ্যমে সেই অবহেলিত শ্রমিকদের মনের আর্তনাদ তুলে ধরেছেন তার 'শ্রমিক কথন' কবিতায়। আজ আমরা এই কবিতার প্রেক্ষাপট এবং মূলভাব নিয়ে আলোচনা করব।
কবিতার প্রেক্ষাপট
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। মালিকপক্ষের অবহেলা, ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং বিপদের দিনে মালিকের সহযোগিতা না পাওয়ার রূঢ় বাস্তবতাকে কেন্দ্র করেই কবি এই কবিতাটি রচনা করেছেন। মূলত এটি একটি প্রতিবাদী এবং সচেতনতামূলক কবিতা।
সারসংক্ষেপ
'শ্রমিক কথন' কবিতায় ফুটে উঠেছে শ্রমিকের নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের কথা। তারা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করলেও দিনশেষে পায় 'পাজি' তকমা। কবি এখানে বিধাতার কাছে আর্জি জানিয়েছেন যেন অসহায় শ্রমিকদের তিনি রক্ষা করেন, কারণ দুনিয়াতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো আপন কেউ নেই।
মূল কবিতা: শ্রমিক কথন
জীবনটাকে বাজী রেখে
যারা ফোটায় ফুল,
তারাই হলো শ্রমজীবী
সব উন্নতির মূল।
বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী
পায় না সঠিক দাম,
ঘাম ঝরিয়ে খাটেন শুধু
হয় না কভু নাম।
কাজের বেলায় কাজী সাজায়
শেষে পাজি কয়,
চলছে ঠিকই শ্রমের গাড়ি
ন্যায্য পাওনায় নয়।
রোদ- বৃষ্টি আর ঝড়- তুফানে
শ্রমিক প্রস্তুত ভাই,
বিপদকালে খোঁজ রাখে না
দেয় না মালিক ঠাঁই।
ধরনীর আজ শণির দশা
বাঁচার পথে ধাই,
বিধি তুমি রক্ষা করো
শ্রমিকের কেউ নাই।
(রচনাকালঃ ০৫.০৭.২০২১ইং)
শেষ কথা
'শ্রমিক কথন' শুধু একটি কবিতাই নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনের এক জীবন্ত দলিল। কবির নিপুণ শব্দ চরণে উঠে এসেছে সামাজিক বৈষম্যের চিত্র। আশা করি, এই কবিতা পাঠকদের মনে শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতি এবং সম্মান জাগ্রত করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
১. 'শ্রমিক কথন' কবিতার কবি কে?
উত্তর: এই কবিতার কবি হলেন হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া।
২. কবিতাটির মূল বার্তা কী?
উত্তর: কবিতার মূল বার্তা হলো শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করা।
৩. কবিতাটি কবে লেখা হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি ৫ জুলাই ২০২১ সালে লেখা হয়েছে।
About Author (লেখক পরিচিতি)
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া একজন উদীয়মান কবি ও লেখক। তিনি সমাজের অসঙ্গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন। তার লেখনীতে সহজ-সরল ভাষায় গভীর জীবনবোধ ফুটে ওঠে।
ধন্যবাদান্তে,
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
কবি ও সাহিত্য অনুরাগী
🍀 আমার আরও লেখা পড়তে- আমার ফেইসবুক পেইজটি ফলো করে পাশে থাকুন :
https://www.facebook.com/share/1APvebeXJr/

সত্যি শ্রমিকরা আজো তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কবিকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি কবিতা আমাদের উপহার দেয়ার জন্য!
আপনার অসাধারণ গঠনমূলক মন্তব্য পেয়ে খুবই অনুপ্রাণিত হলাম প্রিয়, যারপরনাই ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো!💖