বাবার বাড়ি
ভূমিকা
একটি মেয়ের জীবনে সবচেয়ে নিরাপদ এবং আদরের আশ্রয়স্থল হলো তার বাবার বাড়ি। শৈশব থেকে কৈশোর, প্রতিটি পদক্ষেপে বাবার যে ছায়া মাথার ওপর থাকে, তা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও হৃদয়ে অমলিন রয়ে যায়। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া তার "বাবার বাড়ি" কবিতায় এক মেয়ের অন্তরের সেই লুকানো আর্তি, স্মৃতি এবং না বলা কথাগুলো খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
কবিতার প্রেক্ষাপট
বাঙালি সমাজে কন্যা সন্তানদের বিয়ের পর তাদের ঠিকানা বদলে যায়। নতুন সংসার, নতুন মানুষ- সব কিছুর মাঝেও বাবার বাড়ির প্রতি যে অমোঘ টান, তা কখনো ফুরিয়ে যায় না। ২০২১ সালের ২৬শে জুলাই কবি এই আবেগঘন মুহূর্তগুলোকে শব্দে রূপ দিয়েছেন, যা প্রতিটি বিবাহিত নারীর জীবনের এক বাস্তব চিত্র।
কবিতার সারসংক্ষেপ
কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে, বাবার কাছে প্রতিটি মেয়েই রাজকন্যার মতো। বিয়ের পর অন্য বাড়িতে নিজের সংসার পাতলেও বাবার বাড়ির স্মৃতি তাকে বারবার আবেগপ্রবণ করে তোলে। যখন সে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে, তখন যেন সে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। কিন্তু বিদায়বেলা আবার সেই চিরচেনা বিষাদ তাকে ঘিরে ধরে। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ এই কবিতা।
বাবার বাড়ি
কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
সকল কন্যা বাবার কাছে
রাণীর মতন রয়,
বাবা নামটি চিরকালই
কন্যার সেরা হয়।
বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি
হয় যে কন্যার ঘর,
পর কে আপন করে কন্যা
শত কষ্টের পর।
বাবার বাড়ির কথা ভেবে
চোখে আসে জল,
স্মৃতি'রা সব বাড়ায় প্রীতি
কন্যা হারায় বল।
আসলে পরে বাবার বাড়ি
পায় সে ফিরে প্রাণ,
পাড়াশুদ্ধ খোঁজ নেয় কন্যা
ঘুচায় মনের টান।
ফেরার কালে মাথা বুকে
বাবা-মাকে কয়,
ভালো থেকো যত্ন নিও
মোর তো যেতে হয়!
🌱🌼
শেষ কথা
বাবার বাড়ি মানেই যেন এক টুকরো জান্নাত। শত কষ্ট আর ব্যস্ততার মাঝেও বাবার একটু ভালোবাসা আর মায়ের হাতের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য প্রতিটি মেয়ে মুখিয়ে থাকে। হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার এই কবিতাটি আমাদের সেই চিরায়ত আবেগের কথা মনে করিয়ে দেয়। কবিতাটি আপনার ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাবার বাড়ি কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: কবিতাটি কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার লেখা।
প্রশ্ন ২: কবিতাটি কত তারিখে লেখা হয়েছে?
উত্তর: এই কবিতাটি ২৬ জুলাই ২০২১ তারিখে রচিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: এই কবিতার মূল উপজীব্য বিষয় কী?
উত্তর: বাবার বাড়ির প্রতি মেয়ের টান এবং সেখানে কাটানো স্মৃতির আবেগই এই কবিতার মূল বিষয়।
লেখক পরিচিতি
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
একজন তরুণ কবি ও সাহিত্য অনুরাগী। সমাজের সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং পারিবারিক বন্ধন নিয়ে সহজ-সরল ভাষায় জীবনমুখী কবিতা লিখতে তিনি ভালোবাসেন। তাঁর লেখনীতে মানুষের আবেগ ও বাস্তবতার প্রতিফলন ফুটে ওঠে।
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
(কাব্য প্রেমী ও লেখক)
