আসুন গাছ লাগাই
🌿 ভূমিকা
প্রিয় পাঠক, আসসালামু আলাইকুম। স্বাগত জানাচ্ছি মুরাদের কলম ব্লগে। আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি আমার লেখা একটি অনুপ্রেরণামূলক ছড়া কবিতা — "আসুন গাছ লাগাই"।
বৃক্ষরোপণ আজ সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা — সবকিছুই আমাদের একটি কথাই বলছে: আসুন গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই, নিজেদের বাঁচাই।
গাছ মানুষের পরম বন্ধু — এই চিরন্তন সত্যকে ছন্দের মাধুর্যে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি এই কবিতায়। গাছ নিয়ে কবিতা বাংলা ভাষায় লেখা এই ছড়াটি শিশু থেকে বৃদ্ধ — সকল বয়সের পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
আশা করি, এই বৃক্ষরোপণ কবিতা পড়ে আপনারা অন্তত একটি হলেও গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ হবেন।
📜 কবিতার প্রেক্ষাপট
২০২১ সালের জুলাই মাস। সারা বিশ্বে তখন কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহতা চলছে। মানুষ ঘরবন্দি, অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চারদিকে। হাসপাতালে হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট — এমন এক দুঃসময়ে প্রকৃতির কথা, গাছের কথা, অক্সিজেনের কথা মনে পড়ে প্রবলভাবে। ঠিক সেই সময়েই আমার কলম থেকে জন্ম নেয় এই "আসুন গাছ লাগাই" কবিতাটি।
আমরা প্রতিনিয়ত গাছ কাটছি, বন ধ্বংস করছি, কিন্তু পরিবর্তে কতটুকু গাছ লাগাচ্ছি? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। গাছ আমাদের খাদ্য দেয়, ফল দেয়, অক্সিজেন দেয়, আসবাবপত্র দেয়, ওষুধ দেয়, ঝড়-বন্যা থেকে রক্ষা করে, পাখির আবাসস্থল তৈরি করে — অর্থাৎ গাছ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাই করা যায় না। এই সমগ্র ভাবনা থেকেই গাছ লাগানোর কবিতা হিসেবে এই ছড়াটি রচনা করি।
বৃক্ষরোপণ নিয়ে ছড়া বা কবিতা লেখার পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিল — সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের, বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা। কারণ ছড়ার ছন্দ সহজে মনে থাকে, হৃদয়ে দাগ কাটে। তাই ছন্দের ভাষায় গাছের গুণাগুণ ও গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল এই কবিতার মূল প্রেক্ষাপট।
📝 কবিতার সারসংক্ষেপ
"আসুন গাছ লাগাই" কবিতাটিতে মোট ছয়টি স্তবকে (Stanza) গাছের বিভিন্ন উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিম্নরূপ:
🔹 প্রথম স্তবক: গাছকে মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গাছ কখনো ছলনা করে না, বরং নিঃশর্তভাবে আমাদের সুস্বাদু ফল উপহার দেয়।
🔹 দ্বিতীয় স্তবক: গাছ থেকে প্রাপ্ত টক, মিষ্টি, রসালো নানা স্বাদের ফল এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত আসবাবপত্র — সবকিছুই গাছের দান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
🔹 তৃতীয় স্তবক: আয়ুর্বেদ ও শাস্ত্র মতে গাছের লতাপাতায় নানা রোগের প্রতিষেধক রয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো বৃক্ষ নেই যার কোনো গুণ নেই — এই সত্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
🔹 চতুর্থ স্তবক: ঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে গাছ অপার দান। গাছ আছে বলেই পাখি মিষ্টি সুরে গান শোনায় — প্রকৃতির এই সৌন্দর্য গাছ ছাড়া অসম্পূর্ণ।
🔹 পঞ্চম স্তবক: অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো গাছ। দম তথা শ্বাসপ্রশ্বাস ছাড়া জীবন বাঁচে না — তাই গাছ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য।
🔹 ষষ্ঠ স্তবক (সমাপনী): সবাইকে বৃক্ষরোপণে পণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃক্ষরোপণ করলে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের মধ্যে আর কোনো সংঘাত (রণ) থাকবে না — এই আশাবাদ ব্যক্ত করে কবিতাটি শেষ হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আসুন গাছ লাগাই কবিতা একটি সচেতনতামূলক ও অনুপ্রেরণামূলক রচনা যা পাঠককে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে।
আসুন গাছ লাগাই
কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
(Hossain Mohammed Murad Meah)
গাছ মানুষের পরম বন্ধু
করে না তো ছল,
ওদের জন্যই পেলাম সবে
বাহারি সব ফল।
টক মিষ্টি আর রসে ভরা
নানা স্বাদের ঘ্রাণ,
দরকারি সব আসবাবপত্র
সবই গাছের দান।
লতাপাতায় রোগ সারে তা
শাস্ত্র মতে পাই,
গুণ নেই কোনো এমন বৃক্ষ
এই দুনিয়ায় নাই।
ঝড়- বন্যাতে রক্ষা পেতে
বৃক্ষ অপার দান,
গাছ আছে তাই মিষ্টি সুরে
পাখি শোনায় গান।
অক্সিজেনের বড় মাধ্যম
বৃক্ষ মাঝে পাই,
দম ছাড়া কি জীবন বাঁচে?
কোনো উপায় নাই।
বৃক্ষরোপণ করবো মোরা
আসুন করি পণ,
প্রকৃতি আর প্রাণিকুলে
রবে না আর রণ।
📅 তারিখঃ ০২.০৭.২০২১ ইং
© কপিরাইট সংরক্ষিত: এই কবিতাটির সর্বস্বত্ব কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া কর্তৃক সংরক্ষিত। অনুমতি ব্যতীত কপি, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা অন্যত্র প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয়।
🌱 শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, "আসুন গাছ লাগাই" কবিতাটি পড়ার পর নিশ্চয়ই অনুভব করছেন — গাছ আমাদের জীবনে কতটা অপরিহার্য। আমরা প্রতিদিন যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, যে ফল খাই, যে আসবাবপত্র ব্যবহার করি, যে ওষুধে সুস্থ হই — সবকিছুর পেছনেই রয়েছে গাছের নিঃশর্ত অবদান। গাছ সত্যিই মানুষের পরম বন্ধু, যে বন্ধু কোনোদিন ছলনা করে না, শুধু দিয়েই যায়।
বৃক্ষরোপণ কবিতা বা গাছ লাগানোর কবিতা শুধু পড়লেই হবে না, এর শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকেই অন্তত একটি করে গাছ লাগাই। নিজের বাড়ির আঙিনায়, ছাদে, রাস্তার পাশে, স্কুল-কলেজের মাঠে — যেখানেই সম্ভব সেখানেই একটি চারা রোপণ করি। মনে রাখবেন, একটি গাছ লাগানো মানে একটি প্রাণ বাঁচানো।
পরিবেশ রক্ষায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে, প্রাণিকুলের আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখতে এবং সুন্দর সবুজ পৃথিবী গড়তে — আসুন গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই।
কবিতাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন, কমেন্টে আপনার মতামত জানান এবং মুরাদের কলম ব্লগের সাথে থাকুন। আমার লেখা আরও কবিতা, ছড়া ও গল্প পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন www.muraderkolom.com।
❓ FAQ — সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: "আসুন গাছ লাগাই" কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: "আসুন গাছ লাগাই" কবিতাটি লিখেছেন কবি ও লেখক হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)। তিনি মুরাদের কলম (www.muraderkolom.com) ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক।
প্রশ্ন ২: কবিতাটি কবে রচিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি ০২ জুলাই, ২০২১ তারিখে রচিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: "আসুন গাছ লাগাই" কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা। গাছ যে মানুষের পরম বন্ধু, অক্সিজেনের উৎস, ফলমূল-ওষুধ-আসবাবপত্রের দাতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে অপার দান — সেই সত্য সুন্দর ছন্দে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: কবিতাটি কি শিশুদের জন্য উপযোগী?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। কবিতাটি সহজ-সরল বাংলা ভাষায় ছন্দ ও মিলযুক্তভাবে লেখা, যা শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের পাঠকের জন্য উপযোগী। স্কুলের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, পরিবেশ দিবস, বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ ইত্যাদি উপলক্ষে এই কবিতাটি আবৃত্তি করা যায়।
প্রশ্ন ৫: গাছ লাগানো কেন জরুরি?
উত্তর: গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, খাদ্য-ফলমূল-কাঠ-ওষুধ সরবরাহ করে, ঝড়-বন্যা-ভূমিক্ষয় রোধ করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। গাছ ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব অসম্ভব।
প্রশ্ন ৬: কবিতাটি কি কপি করা যাবে?
উত্তর: না। এই কবিতাটি কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া কর্তৃক কপিরাইট সংরক্ষিত। অনুমতি ব্যতীত কবিতাটি কপি, পরিবর্তন বা অন্যত্র প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয়।
প্রশ্ন ৭: কবির আরও লেখা কোথায় পড়া যাবে?
উত্তর: কবির আরও লেখা পড়তে ভিজিট করুন — ব্লগ: www.muraderkolom.com | ফেসবুক পেজ: মুরাদের কলম
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
✍️ লেখক পরিচিতি
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah) একজন কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, ব্লগার এবং বহুমাত্রিক সৃজনশীল লেখক। তিনি সমকালীন বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য, কবিতা, গদ্যকবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, সাহিত্য-সমালোচনা, মানবিক সম্পর্ক, দর্শন, মনস্তত্ত্ব, আত্মঅন্বেষণ এবং সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন।
ভাবনার গভীরতা, ভাষার সংযম, প্রতীকী নির্মাণ এবং মানবমনের সূক্ষ্ম অনুভূতির শিল্পিত প্রকাশ তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তি, সমাজ, সময়, প্রেম, বিচ্ছেদ, স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অস্তিত্বের জটিল প্রশ্ন তাঁর লেখায় নতুন ব্যাখ্যা ও সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হয়।
তিনি ‘মুক্তির কবি (Muktir Kobi)’ একক কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা এবং আরও ১৪টি যৌথগ্রন্থের সহলেখক। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যকে ডিজিটাল যুগে বিশ্বব্যাপী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সাহিত্যকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল সাহিত্যভাণ্ডার নির্মাণ তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
MuraderKolom.com তাঁর ব্যক্তিগত সাহিত্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে নিয়মিত প্রকাশিত হয় মৌলিক কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, সাহিত্য বিশ্লেষণ, বই-পর্যালোচনা এবং সমকালীন সাহিত্যবিষয়ক নিবন্ধ। প্রতিটি লেখা পাঠকের চিন্তা, অনুভূতি, আত্মঅন্বেষণ এবং সাহিত্যবোধকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রচিত।
📚 প্রকাশিত গ্রন্থ
📖 একক কাব্যগ্রন্থ: মুক্তির কবি (Muktir Kobi)
📚 যৌথগ্রন্থ: ১৪টি
✒️ লেখার প্রধান বিষয়সমূহ
বাংলা ও ইংরেজি কবিতা • গদ্যকবিতা • ছোটগল্প • প্রবন্ধ • সাহিত্য-সমালোচনা • মানবিক সম্পর্ক • দর্শন • মনস্তত্ত্ব • আত্মঅন্বেষণ • সমাজ ও সংস্কৃতি
🌐 লেখকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুন
🌍 ওয়েবসাইট
www.muraderkolom.com
📘 Facebook Page
অনুসরণ করুন
💼 LinkedIn
linkedin.com/in/muraderkolom
📌 Pinterest
Pinterest Profile
🧵 Threads
@hossainmeah5721
