ভবের রিধি
ভবের রিধি — করোনাকালে শিক্ষা ও জীবনের আকুতি
✍️ কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)
📖 ভূমিকা
২০২০ ও ২০২১ সাল — গোটা পৃথিবী যখন এক অদৃশ্য মহামারির কবলে, তখন বাংলাদেশের লাখো শিক্ষার্থীর জীবনে নেমে আসে এক দীর্ঘ অন্ধকার। স্কুলের গেটে তালা, শ্রেণিকক্ষে নীরবতা, আর মোবাইল ফোনের পর্দায় ক্লান্তিকর অনলাইন ক্লাস — এই ছিল সেই সময়ের দৈনন্দিন চিত্র।
কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah) তাঁর "ভবের রিধি" কবিতায় ঠিক এই যন্ত্রণা, হতাশা এবং শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আকুল প্রার্থনাকে সাবলীল ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ভবের রিধি কবিতা একই সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতার দলিল এবং আশার বাণী — যা প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকের হৃদয়ে অনুরণিত হয়।
🕰️ কবিতার প্রেক্ষাপট
"ভবের রিধি" কবিতাটি রচিত হয়েছে ০৭ আগস্ট ২০২১ তারিখে — যখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় দেড় থেকে দুই বছর বন্ধ। এই দীর্ঘ লকডাউন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পড়াশোনার ধারাবাহিকতা এবং সামাজিক সম্পর্কে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। কবি সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে লিখেছেন এই কবিতা।
কবিতার শিরোনামেই লুকিয়ে আছে এর দার্শনিক গভীরতা। "ভব" অর্থ সংসার বা পার্থিব জগৎ, আর "রিধি" (ঋদ্ধি) অর্থ সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য বা কল্যাণ। অর্থাৎ, ভবের রিধি মানে এই পার্থিব জীবনে আবার সমৃদ্ধি ও কল্যাণ ফিরে আসুক — এই প্রত্যাশা। কবি যেন সমগ্র জাতির হয়ে, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হয়ে, সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্তি জানাচ্ছেন — সব বাধা দূর হোক, জীবন আবার স্বাভাবিক হোক।
করোনাকালীন বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের কবিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি কেবল আবেগের প্রকাশ নয় — একটি সময়ের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।
📝 সারসংক্ষেপ
ভবের রিধি কবিতায় পাঁচটি স্তবকে করোনাকালীন শিক্ষাজীবনের পুরো চিত্র ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে:
প্রথম স্তবক — স্কুলে তালা পড়ে আছে, দুই বছর কেটে গেছে। শিক্ষক বাড়িতে এসে পড়ালেও খোঁচা দাড়ির স্যারকে দেখে শিশুদের মন ভারাক্রান্ত — এখানে শিক্ষার পরিবেশ হারানোর কষ্ট স্পষ্ট।
দ্বিতীয় স্তবক — পড়াশোনায় মনোযোগ নেই, ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনে গেম খেলে সময় কাটায়। স্কুলের বন্ধুরা পাশে নেই, ঘরে বসে একাকী সময় পার হচ্ছে — সামাজিক বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণা এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
তৃতীয় স্তবক — অনলাইন ক্লাসের বাস্তবতা — ফোনে ক্লাস হলেও মজা নেই, ঘুম আসে, ইন্টারনেট আসে-যায়, গতি কম — প্রতিদিন একই রকম ভোগান্তি। এখানে ডিজিটাল বৈষম্য ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ছবি ফুটে উঠেছে।
চতুর্থ স্তবক — একঘেয়ে জীবনে ভীতি জন্মাচ্ছে, লেখাপড়া লাটে উঠেছে। ছেলে-মেয়েরা সব বাধা ফেলে আবার এক ঘাটে (স্কুলে) জড়ো হতে চায় — এখানে মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
পঞ্চম স্তবক (উপসংহার) — দুঃখ ভুলে মূলে (আদিতে/স্বাভাবিকতায়) ফিরে যাওয়ার আহ্বান। মহাবিধির কাছে পাপ ক্ষমার প্রার্থনা, চুলা চালু করার (জীবনযাত্রা পুনরায় শুরু করার) আবেদন — যেন এই ভব আবার রিধি (ঋদ্ধি/সমৃদ্ধ) হয়ে ওঠে।
💡 মোটকথা, কবিতাটি সংকট থেকে সমৃদ্ধিতে, বিচ্ছিন্নতা থেকে মিলনে, হতাশা থেকে আশায় ফেরার একটি কাব্যিক আত্মজার্নি।
📜 মূল কবিতা
ভবের রিধি
✍️ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)
স্কুলে আছে তালা মনে বড় জ্বালা
দুই সাল হয় পার,
স্যার আসে বাড়ি মুখে খোঁচা দাড়ি
দেখে মুখ হয় ভার।
পাঠে মন নাই ছেলে মেয়ে তাই
ফোনে করে কত খেলা,
স্কুলে সাথি যারা পাশে নেই তারা
ঘরে থেকে কাটে বেলা।
ক্লাস ফোনে হয় মজা নাহি রয়
ঘুম আসে দুই চোখে,
নেট আসে যায় গতি হারে তায়
নিতি ভোগে এক রোখে।
এক ঘেয়ে রীতি মনে আসে ভীতি
লেখা পড়া আজ লাটে,
সব বাধা ফেলে চায় মেয়ে ছেলে
জড়ো হই এক ঘাটে।
দুখ সবে ভুলে চলো যাই মূলে
ক্ষমো পাপ মহা বিধি,
চালু করো চুলা নাশ করো ধূলা
ভব হয় যেনো রিধি।
তারিখ: ০৭.০৮.২০২১ ইং
🔚 শেষ কথা
"ভবের রিধি" কবিতাটি কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয় — এটি একটি প্রজন্মের কান্না, একটি সমাজের অসহায়ত্বের দলিল এবং সেই সঙ্গে অদম্য আশার প্রতীক। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া অত্যন্ত সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় যে চিত্র এঁকেছেন, তা যেকোনো পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করতে বাধ্য।
করোনা মহামারি আমাদের শিখিয়েছে যে জীবন কতটা অনিশ্চিত, শিক্ষা কতটা মূল্যবান, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি সংযোগ কতটা অপরিহার্য। এই কবিতা সেই সত্যকেই শৈল্পিকভাবে প্রকাশ করেছে।
যখনই আমরা কোনো সংকটের মুখোমুখি হব, "ভবের রিধি" আমাদের মনে করিয়ে দেবে — অন্ধকারের পরে আলো আসবেই, শুধু বিশ্বাস ও প্রচেষ্টা ধরে রাখতে হবে।
💬 আপনার মতামত, অনুভূতি বা ভালোলাগার কথা কমেন্টে জানান। কবিতাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন — কারণ একটি ভালো কবিতা ছড়িয়ে দেওয়াও একটি ভালো কাজ।
❓ FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসা)
📌 প্রশ্ন ১: "ভবের রিধি" কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: "ভবের রিধি" কবিতাটি লিখেছেন কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)।
📌 প্রশ্ন ২: "ভবের রিধি" কবিতাটি কবে রচিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি ০৭ আগস্ট ২০২১ তারিখে রচিত হয়েছে।
📌 প্রশ্ন ৩: "ভবের রিধি" কবিতার মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক কষ্ট, অনলাইন ক্লাসের ভোগান্তি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রার্থনা — এটাই ভবের রিধি কবিতার মূল বিষয়বস্তু।
📌 প্রশ্ন ৪: "ভবের রিধি" শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: "ভব" অর্থ সংসার বা পার্থিব জগৎ এবং "রিধি" (ঋদ্ধি) অর্থ সমৃদ্ধি বা কল্যাণ। অর্থাৎ, ভবের রিধি মানে সংসারে বা পৃথিবীতে আবার সমৃদ্ধি ও কল্যাণ ফিরে আসা।
📌 প্রশ্ন ৫: "ভবের রিধি" কবিতাটি কোথায় পড়া যাবে?
উত্তর: কবিতাটি কবির ব্লগ www.muraderkolom.com এবং তাঁর ফেসবুক পেজে পড়া যাবে।
📌 প্রশ্ন ৬: কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার অন্যান্য লেখা কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: তাঁর ব্লগ www.muraderkolom.com এবং ফেসবুক পেজ মুরাদের কলম — এ তাঁর সকল লেখা পাওয়া যায়।
✍️ লেখক পরিচিতি
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
Hossain Mohammed Murad Meah
হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া একজন আবেগী কবি ও ব্লগ লেখক। তিনি তাঁর কলমের মাধ্যমে সমাজের প্রতিচ্ছবি, মানবিক অনুভূতি এবং সমকালীন বাস্তবতাকে ছন্দ ও গদ্যে রূপ দেন। তাঁর লেখার বিশেষত্ব হলো সরল ভাষায় গভীর ভাব প্রকাশ। শিক্ষা, সমাজ, প্রকৃতি ও জীবনবোধ — তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। "মুরাদের কলম" ব্লগের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত তাঁর সাহিত্যকর্ম পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন।
© হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া
Hossain Mohammed Murad Meah
✍️ মুরাদের কলম — যেখানে কলম কথা বলে
🌐 www.muraderkolom.com | 📘 Facebook Page
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১। লেখকের পূর্বানুমতি ব্যতীত এই কবিতার আংশিক বা সম্পূর্ণ পুনঃপ্রকাশ, অনুলিপি বা যেকোনো মাধ্যমে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
