Murader Kolom | Hossain Mohammed Murad Meah

পুলিশ

পুলিশ – কোভিড মহামারিতে জীবনবাজি রাখা বীরদের প্রতি একটি বাংলা কবিতা

কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)


📌 ভূমিকা

পুলিশ — শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভয়, সন্দেহ কিংবা দূরত্বের অনুভূতি জেগে ওঠে। কিন্তু ২০২০-২১ সালের কোভিড-১৯ মহামারি পৃথিবীকে দেখিয়ে দিলো যে, জনগণের সবচেয়ে কাছের মানুষটি আসলে কে। যখন নিকটতম আত্মীয়স্বজন মৃত্যুভয়ে দূরে সরে গেছে, যখন মায়ের স্পর্শে সন্তানের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন এই পুলিশ কবিতা বাংলা ভাষায় রচিত হয়েছে সেই নীলপোশাকধারী বীরদের জন্য — যারা নিজের জীবন বাজি রেখে মানবসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

পুলিশ কবিতা বাংলা – কোভিড মহামারিতে পুলিশের মানবসেবা নিয়ে বাংলা কবিতা – কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া তাঁর এই পুলিশ বাংলা কবিতায় শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর মানবিক বেদনার এক অসাধারণ চিত্র এঁকেছেন — যা পড়লে চোখ ভিজে আসে, হৃদয়ে শ্রদ্ধা জাগে।


📖 কবিতার প্রেক্ষাপট

২০২০ সালের শুরু থেকে সমগ্র বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ থাবায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। লকডাউন, কারফিউ, সামাজিক দূরত্ব — এসব শব্দ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেল। হাসপাতালে শয্যা নেই, অক্সিজেন নেই, শ্মশান-কবরস্থানে জায়গা নেই। এমন একটি ভয়ংকর সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছিল যারা, তাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ছিল পুলিশ বাহিনী।

করোনাকালে দেখা গেছে —

🔹 আপনজনের মুখ ফেরানো: করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজের পরিবারের সদস্যরাও ছুঁতে ভয় পেয়েছে। মা তার সন্তানের কাছে যেতে পারেনি, সন্তান বাবার শেষ মুখটুকু দেখতে পারেনি। এমন নিদারুণ বাস্তবতায় পুলিশ সদস্যরা করোনা রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই রোগীকে কাঁধে বহন করে নিয়ে গেছেন।

🔹 শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ: করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন বা সৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি — এমন ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে। পুলিশ সদস্যরা নিজেরা পিপিই পরে মৃতদেহ বহন করেছেন, গোসল দিয়েছেন, কবরে নামিয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তারা এই মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

🔹 পরিবার থেকে দূরে: ঈদ, পূজা, উৎসবের দিনেও পুলিশ সদস্যরা ডিউটিতে থেকেছেন। নিজের পরিবারের কথা ভুলে, সন্তানের মুখ না দেখে, স্ত্রী-পিতামাতার কাছ থেকে দূরে থেকে তারা জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

🔹 নিজেরাও আক্রান্ত ও মৃত: অনেক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবুও বাকিরা পিছপা হননি। জীবনবাজি রেখে তারা মাঠে ছিলেন।

এই বাস্তব প্রেক্ষাপটেই কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া ২০২১ সালের ১৫ জুন তারিখে এই পুলিশ কবিতাটি বাংলা ভাষায় রচনা করেন। সমাজে পুলিশ সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাকে ভেঙে, তাদের ত্যাগ ও মানবসেবার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাই ছিল এই কবিতার মূল উদ্দেশ্য।


📝 সারসংক্ষেপ

"পুলিশ" কবিতাটি কোভিড-১৯ মহামারির পটভূমিতে রচিত একটি মানবিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবি এই পুলিশ নিয়ে কবিতায় দেখিয়েছেন যে, যখন মৃত্যুভয়ে আপনজনেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন পুলিশ বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মায়ের স্পর্শে সন্তানের সংক্রমণের ভয় — এই অভূতপূর্ব বাস্তবতায় পুলিশ মানবসেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছে। ঈদ-পূজার মতো আনন্দের দিনেও তারা পরিবার ছেড়ে কর্তব্যে নিয়োজিত থেকেছে। মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যেও তারা পাশে ছিল। তবে কবি স্বীকার করেছেন যে, ধানে যেমন চিটা থাকে, পুলিশেও ব্যতিক্রম আছে — কিন্তু সামগ্রিকভাবে তাদের কর্ম তাদের পরিচয়কে মহিমান্বিত করেছে। কবিতার শেষে কবি সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, মৃত্যু অমোঘ — তাই লোভে মত্ত না হয়ে মানবপ্রেমে নিজেকে নিয়োজিত করাই জীবনের সার্থকতা।


✒️ মূল কবিতা

পুলিশ

কলমেঃ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

(Hossain Mohammed Murad Meah)


জনগণের বন্ধু পুলিশ
প্রমাণ পেলো বিশ্ব,
কেউ পাশে নেই পুলিশ বিনে
অবাক শ্রেষ্ঠ দৃশ্য।

মা'য়ে ছুঁইলে পুত্র মরে
হলো কোভিড রীতি,
মানবসেবায় ধর্ম পূরণ
পুলিশ গাইলো গীতি।

মৃত্যু ভয়ে সবাই দূরে
আপন ভুলেছে মুখ,
জীবনবাজির মরণ- খেলায়
পুলিশ পেতেছে বুক।

দিনে রাতে দেয় পাহারা
ফেলে আপন সবি,
ঈদ- পুজোতে নীল- বেদনায়
কাঁদে মনের রবি।

নিদান কালে যায়নি ছেড়ে
শেষকৃত্যে রয় পাশে,
বীর- সেনানীর জয় স্মারকে
পুলিশ যেনো হাসে।

ধানে থাকা চিটা যেমন
ব্যতিক্রম নয় পুলিশ,
ধর্মের চেয়ে কর্ম বড়
মানব প্রেমে খুঁজিস।

মরতে হবে কেউ রবো না
এটাই অমোঘ সত্য,
জাত মেরো না অজাত কর্মে
হয়ে লোভে মত্ত।


১৫.০৬.২০২১ ইং

© কবিতাটির সর্বস্বত্ব কবি কর্তৃক সংরক্ষিত।


💬 শেষ কথা

পুলিশ কবিতা বাংলা সাহিত্যে এমন একটি সংযোজন যা সময়ের দলিল হয়ে থাকবে। কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে — তার মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, প্রকৃত বন্ধু চেনা যায় বিপদের দিনে। যখন পৃথিবী থমকে গেছে, মানুষ ঘরবন্দি হয়েছে, তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে মানুষের সেবা করেছে এই নীলপোশাকধারী বাহিনী। কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া তাঁর সহজ-সরল কিন্তু গভীর অর্থবোধক এই পুলিশ নিয়ে কবিতায় সেই সত্যকেই তুলে ধরেছেন।

কবিতাটি শুধু পুলিশের প্রশংসা নয় — এটি একটি সামাজিক দর্পণ। কবি দেখিয়েছেন যে, কিছু ব্যতিক্রম সর্বত্রই থাকে — ধানে যেমন চিটা থাকে, তেমনি পুলিশ বাহিনীতেও কিছু অসৎ ব্যক্তি থাকতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বিচার করলে, তাদের ত্যাগ ও সেবার কাছে সেই ব্যতিক্রম তুচ্ছ হয়ে যায়। "ধর্মের চেয়ে কর্ম বড়" — এই চিরন্তন সত্যকে পুলিশ বাহিনী কোভিডকালে প্রমাণ করেছে।

কবিতার শেষ স্তবকে কবি জীবনের চরম সত্যটি উচ্চারণ করেছেন — "মরতে হবে কেউ রবো না, এটাই অমোঘ সত্য।" তাই ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে লোভ-মোহে ডুবে না থেকে, মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই প্রকৃত সফলতা।

আপনি যদি পুলিশ বাংলা কবিতা 'টি পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন, তাহলে এই কবিতাটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন। পুলিশ বাহিনীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানানো — এটাই এই কবিতার মূল বার্তা।

মুরাদের কলমের আরও কবিতা ও লেখা পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন 👉 www.muraderkolom.com


❓ FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসা)

১. "পুলিশ" কবিতাটি কে লিখেছেন?

"পুলিশ" কবিতাটি লিখেছেন কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah)। তিনি "মুরাদের কলম" ব্লগের লেখক এবং বাংলা ভাষায় সমাজসচেতন কবিতা রচনায় পরিচিত।

২. "পুলিশ" কবিতাটি কবে রচিত হয়েছে?

কবিতাটি ১৫ জুন ২০২১ তারিখে রচিত হয়েছে, যখন কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বকে আবারও গ্রাস করেছিল।

৩. "পুলিশ" কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু কী?

এই পুলিশ কবিতা বাংলা ভাষায় রচিত হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারিতে পুলিশ বাহিনীর অসামান্য মানবসেবা ও আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে। যখন আপনজনেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে — এটাই কবিতার মূল বার্তা।

৪. কবিতায় "ধানে থাকা চিটা" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

কবি এই উপমার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, ধানক্ষেতে যেমন কিছু চিটা দানা থাকে — অর্থাৎ ফাঁকা, অসার দানা — তেমনি পুলিশ বাহিনীতেও কিছু ব্যতিক্রম বা অসৎ ব্যক্তি থাকতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীর সেবা ও ত্যাগ অতুলনীয়।

৫. কবিতায় "মানবসেবায় ধর্ম পূরণ" কথাটির তাৎপর্য কী?

কবি বলতে চেয়েছেন যে, পুলিশ সদস্যরা কোভিডকালে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করেছেন। মানবসেবাই যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম — এই বার্তাটি কবি এই পঙ্‌ক্তিতে তুলে ধরেছেন।

৬. "পুলিশ" কবিতাটি কোথায় পড়া যাবে?

কবিতাটি কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার অফিসিয়াল ব্লগ www.muraderkolom.com এবং তাঁর ফেসবুক পেজ মুরাদের কলম-এ পড়া যাবে।

৭. কবিতাটি কি কপি বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে?

না। এই কবিতাটির সম্পূর্ণ কপিরাইট কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার নিজস্ব সম্পদ। কবির লিখিত অনুমতি ব্যতীত কবিতাটি কপি, পুনঃপ্রকাশ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


✍️ লেখক পরিচিতি

হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া (Hossain Mohammed Murad Meah) একজন বাংলা ভাষার কবি, লেখক ও ব্লগার। তিনি "মুরাদের কলম" (www.muraderkolom.com) ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। সমাজসচেতনতা, মানবপ্রেম, দেশপ্রেম ও জীবনবোধ নিয়ে তিনি নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করে থাকেন। তাঁর লেখায় সাধারণ মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও জয়ের গল্প প্রাধান্য পায়। কোভিড-১৯ মহামারিকালে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ ও মানবসেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি "পুলিশ" কবিতাটি রচনা করেন।

🌐 ব্লগ: www.muraderkolom.com

📘 ফেসবুক পেজ: মুরাদের কলম

✍️ হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

কবি ও লেখক, মুরাদের কলম

🌐 www.muraderkolom.com

📘 Facebook Page

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। কবির লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই কবিতার আংশিক বা সম্পূর্ণ পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url