মানুষ আগে ধর্ম পরে | হোসাইন মুুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

 

manush-age-dhormo-pore-murader-kolom



বর্তমান বিশ্বে যখন ধর্ম ও জাতির দোহাই দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তখন কবি হোসাইন মুহাম্মদ মুরাদ মিয়ার "মানুষ আগে ধর্ম পরে" কবিতাটি আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়। ৩ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে সৃজিত এই কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জগতের সকল ধর্মের ঊর্ধ্বে হলো মানবধর্ম। লেখক এখানে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন যে, মানুষ না থাকলে ধর্মের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। চলুন কবিতাটি পড়ে নেয়া যাক:

 মানুষ আগে ধর্ম পরে

--হোসাইন মুুহাম্মদ মুরাদ মিয়া

             

মানুষ আগে ধর্ম পরে
ইতিহাসে খবর পাই,
মহাসত্য মানুষ ছাড়া
স্রষ্টার কোনো দলিল নাই।

ধর্ম-বর্ণ-জাতিভেদে
মানুষ-মাঝে বাড়ছে দূর,
বাকী স্বর্গের মোহে পড়ে
নগদ বিশ্ব করছি চুর।

ধর্মের তরে অন্ধ হয়ে
মানুষ মারছে মানুষ ভাই,
ভেবে দেখো মানুষ বিনে
কোথা হবে ধর্মের ঠাঁই?

মানবতায় জাগলে বিশ্ব
মনুষ্যত্বের হবে জয়,
পেটের ক্ষুধা খাদ্যে মিটে
কোরান বাইবেল গীতায় নয়।

যারযার ধর্ম সে সে করুক
বাড়াবাড়ির দরকার নেই,
আজান শুনে ঘুম ভাঙি চল্
তুলসীতলায় পানি দেই।

কবিতার প্রেক্ষাপট ও সারসংক্ষেপ:

​এই কবিতাটি মূলত একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। কবি এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন-


​মানুষই শ্রেষ্ঠ: সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের বড় প্রমাণ হলো মানুষ। মানুষকে বাদ দিয়ে ধর্মের কোনো সার্থকতা নেই।

ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতিবাদ: ধর্মের নামে মানুষে মানুষে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং স্বর্গের মোহে পড়ে আমরা যে সুন্দর পৃথিবীকে ধ্বংস করছি, কবি তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

​ক্ষুধার বাস্তবতা: পেটের ক্ষুধা যে কোনো ধর্মগ্রন্থ দিয়ে নয়, বরং খাদ্যের মাধ্যমেই মিটে—এই চরম সত্যটি এখানে ফুটে উঠেছে।

​সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: কবিতার শেষ চরণে কবি আজান শুনে ঘুম থেকে উঠে তুলসীতলায় জল দেওয়ার কথা বলে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির চিত্র এঁকেছেন।

April 4, 2023
© Hossain Mohammed Murad Meah
All Rights Reserved.

Follow my facebook page:
https://www.facebook.com/share/14YQTtgFsJX/

​#মানুষ_আগে_ধর্ম_পরে #হোসাইন_মুহাম্মদ_মুরাদ_মিয়া #কবিতা #বাংলা_কবিতা #মানবতা #সম্প্রীতি #মনুষ্যত্ব #BengaliPoem #HumanityFirst #Harmony


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url